মঙ্গলবার, ১৬ Jul ২০২৪, ১০:৩৪ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
নির্যাতনের প্রতিবাদ ও ন্যায় বিচারের দাবীতে ব্যবসায়ীর মানববন্ধন ‘মাদকাসক্তি, অপরাধ নাকি মানসিক রোগ?এর প্রতিকার’ শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত কুর্মিটোলায় স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি উদ্বোধন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সবুজায়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিবেশের উন্নতি সাধন করা হবে : পরিবেশমন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীর ঐচ্ছিক তহবিল হতে অসহায় ও দরিদ্রদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ বাংলাদেশ সারা বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে : শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শিশুদের মেধা মনন বিকাশে সঠিক পরিচর্যা নিতে হবে : মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ডুমুরিয়ায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ঢাকার ৬২টি ইউনিয়নে শুরু হচ্ছে ক্যাশলেস স্মার্ট সেবা দেশের বাজারে ওয়ানপ্লাস আনলো ফ্ল্যাগশিপ ফোন নর্ড সিই৪ লাইট ফাইভজি

এবারও জোট, বেশি আসনের আশায় জেপি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কড়া নাড়ছে। বিরোধী রাজনৈতিক শিবির আন্দোলনে থাকলেও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্ষমতাসীন দল ও তাদের শরিকরা। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিকরা এবারও জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে জাতীয় পার্টি-জেপি এবার ১৪ থেকে ১৬টি আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলটি জোটের আসন বণ্টনের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে। বিগত নির্বাচনগুলোর চেয়ে এই নির্বাচনে বেশি আসনে ছাড় পাওয়ার আশা করছে জেপি।

জানা যায়, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি-জাপার অন্যতম নেতা আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও শেখ শহিদুল ইসলাম। তারা দুজনই এরশাদ সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। বিরোধের জেরে জাপা থেকে আলাদা হয়ে ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টি-জেপি নামে পৃথক দল গঠন করেন এই নেতা। তারা দুই জনই ছিলেন আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতা। ওই বছর প্রথমবারের মতো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয় জেপি। মাত্র একটি আসনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী হন দলটির প্রেসিডেন্ট আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।

সূত্রমতে, জাতীয় পার্টি-জেপি সংগঠিত হয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে অংশ নিয়েছিল। ওই নির্বাচনে ১৪০টি আসনে দলীয় প্রার্থী দিলেও দলটির প্রধান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু পিরোজপুর-২ আসনে জয়ের দেখা পান। নির্বাচনে সারা দেশে ৫ কোটি ৫৭ লাখ ৩৬ হাজার ৬২৫ ভোট পড়ে, যার মধ্যে জেপি বাইসাইকেল প্রতীকে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৬১৭ ভোট পায়, যা শতাংশের হারে শূন্য দশমিক ৪৪ শতাংশ। তবে জেপি মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলামের দাবি, অষ্টম সংসদ নির্বাচনে তারা ভোট পেয়েছেন ৩ দশমিক ৩ শতাংশ।

পরবর্তী তিনটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট কিংবা ১৪ দলীয় জোটগতভাবে ভোটে অংশ নেয় জাতীয় পার্টি-জেপি। এর মধ্যে ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের অংশ হিসেবে ভোটে অংশ নেয় দলটি। ওই নির্বাচনে জোটগতভাবে দুটি আসনে ছাড় দেওয়া হলেও নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, দলীয় সিদ্ধান্তে ৭টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে জেপি। কোনও প্রার্থী জয়ের দেখা পাননি। বাইসাইকেল মার্কায় ভোট পড়ে ৭ হাজার ৮১৮টি, যা শূন্য দশমিক শূন্য ১ শতাংশ (০.০১)।

বিএনপি জোট ভোট বর্জন করায় ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দলের শরিক হিসেবে অংশ নেয় জাতীয় পার্টি-জেপি। ওই নির্বাচনে দলটি জোটগতভাবে দুটি আসনে ছাড় পেলেও নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ২৮ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে দুই জন জয়ী হওয়ায় বাইসাইকেলে ভোট পড়ে ১ লাখ ২৪ হাজার ৩৮৯টি, যা শূন্য দশমিক ৭৩ শতাংশ। পিরোজপুর-২ আসন থেকে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন। আবারও মন্ত্রিসভায় স্থান পান তিনি।

বিএনপি ভোটের লড়াইয়ে ফেরায় ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের হয়ে নির্বাচন করে জেপি। ওই নির্বাচনে দলটির প্রেসিডেন্ট আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে পিরোজপুর-২ আসনে জোটগতভাবে ছাড় দেওয়া হয় এবং তিনি জয়ী হন। তবে আরও কয়েকটি আসনে দলীয় সিদ্ধান্তে প্রার্থী জেপি প্রার্থী দিলেও তারা জয়ের দেখা পাননি। সবশেষ এই নির্বাচনে জেপির বাইসাইকেলে কত ভোট পড়েছে এবং শতাংশে সেই হার কত, তা নির্বাচন কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

বিগত নির্বাচনগুলোর ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠার পর থেকে জাতীয় পার্টি-জেপি সর্বোচ্চ আসন পেয়েছে বিএনপির ভোট বর্জন করা ২০১৪ সালের নির্বাচনে, ২টি। আর দলটি সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে ২০০৮ সালের নির্বাচনে, কোনও আসন জোটেনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেপির মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন কমিশন জয়ী প্রার্থীর ভোটের হিসাব বিবেচনায় নেওয়ায় প্রাপ্ত ভোট ও শতাংশের হিসাবে কম দেখা যাচ্ছে। তবে সারা দেশে আমাদের ভোট ২০০১ সালে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ ছিল, যা গত দুই দশকে আরও বেড়েছে। জোটগতভাবে নির্বাচন করায় সেই সংখ্যা দলীয়ভাবে বোঝা সম্ভব হচ্ছে না। জেপির যে ভোটব্যাংক বেড়েছে, তা এবারের নির্বাচনি প্রস্তুতিতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৪ থেকে ১৫টি আসনে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে জেপি। এসব আসনে আমাদের যোগ্য প্রার্থী রয়েছেন এবং তারা নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। তবে জোটগতভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। সে জন্য জোটগতভাবেই প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন জেপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। যে কয়টি আসনে জোটের পক্ষ থেকে ছাড় পাওয়া যাবে, সে অনুযায়ী প্রার্থী দেওয়া হবে। আমাদের নির্বাচনের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কোনও ঘাটতি নেই।

জেপির একাধিক নেতা বলছেন, অতীতের মতো এবারের নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে মহাজোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে দলটি। আর বিএনপি নির্বাচনে না এলে ১৪ দলীয় জোটগতভাবে নির্বাচন করবে তারা। তবে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, বিএনপি এই নির্বাচনে আসবে না। ফলে ১৪ দলগতভাবে নির্বাচন করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে জেপি। অতীত বলছে, বিএনপিবিহীন নির্বাচনে জেপি সবচেয়ে ভালো ফলাফল করছে। এ কারণে ২০১৪ সালের মতো জোটের কাছ থেকে বেশি আসন ছাড় পাওয়ার আশা করছেন দলটির নেতারা।

জানতে চাইলে জেপির মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, বিএনপি নির্বাচনে না আসলেও সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়ে নির্বাচন হবে। তফসিল ঘোষণার পর জোটের আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা। আমাদের প্রত্যাশা, জোটের কাছ থেকে এবার বেশি আসনে ছাড় পাবে জেপি। তবে জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই আমরা নির্বাচনে অংশ নেবো।

গত ১৯ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ১৪ দলের সভা হয়। সেখানে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী করার ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান শেখ হাসিনা। নির্বাচন জোটগতভাবে করা এবং ভোট ‘ব্যাহত করার যেকোনও ষড়যন্ত্র’ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করার সিদ্ধান্ত নেন ১৪ দলীয় জোট নেতারা।
সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 ithostseba.com
Design & Developed BY Hostitbd.Com
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com